রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিশ বছরে পাহাড় ধস বেড়েছে ৪০০ শতাংশ!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ বছরে পাহাড় ধস বেড়েছে ৪০০ শতাংশ!
ফাইল ছবি

‎বিগত ২০ বছরে ২৫ শতাংশ পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। যার ফলে পাহাড় ধস বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। এক আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

‎‎বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ আয়োজিত ‌‘বিশ্ব পরিবেশের বর্তমান অবস্থা, প্রেক্ষিত ও আমাদের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রবন্ধটি উপস্থাপন করা হয়।

‎‎প্রবন্ধটি তুলে ধরে পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি খাইরুন নাহার খানম বলেন, দেশের বনভূমি থাকা উচিত ছিল ২৫ শতাংশ। সেখানে আমাদের দেশে বনভূমির পরিমাণ ১১ থেকে ১২ শতাংশ বলা হলেও কার্যকর বনভূমি মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে বনভূমি নিধনের ফলে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চল আজ ঝুঁকির মধ্যে, উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানিতে দ্রুত লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খাইরুন নাহার বলেন, বৈশ্বিক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আমাদের বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির ফলে বাংলাদেশ প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে জিডিপি হারাচ্ছে।

‎‎পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপিকা সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

‎‎সভায় মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‎‎পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, নদী দূষণ বা অন্যান্য দূষণ রোধে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে।

‎‎পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নেও তিনি কাজ করছেন।

‎‎তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিবেশের নানা সমস্যা আছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর যে সদিচ্ছা আছে, সেটা আমাদের সবাইকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করতে হলে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।

Hill‎‎পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, পরিবেশ রক্ষা আইন করেই সম্ভব নয়। সকলের জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।

সভায় পরিবেশ রক্ষায় ৮ দফা সুপারিশ করা হয়। এগুলো হলো—

‎‎১. আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বজনমত তৈরি করা।

‎‎২. উন্নত দেশগুলির কার্বন নিঃসরণের মাত্রা পরিমিত রাখতে কার্যকর ক্যাম্পেইন করা।

‎‎৩. নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে যাত্রা করা। যেমন: সোলার প্যানেল, বায়ু বিদ্যুৎ ও গ্রিন হাইড্রোজেনের ব্যবহার করা।

‎‎৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: রিসাইক্লিং, প্রসেস ডায়াগ্রাম, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

‎‎৫. প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিকল্প হিসেবে দেশব্যাপী কাগজ ও পাটজাত পণ্যের প্রসার ও ব্যবহার নিশ্চিত করা।

‎‎৬. ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও সবুজ বনায়ন বৃদ্ধি করা।

‎‎৮. কৃষিতে ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা।


‎এএম/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর