বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফর: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সফল প্রধানমন্ত্রীর সফর: মাহদী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য, সফরের প্রতিটি পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বিদেশ সফর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে তিনি মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে দেশটির রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরের শেষ পর্যায়ে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশ বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে যে সম্মান, আন্তরিকতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে, তা শুধু একজন সরকারপ্রধানের প্রতি নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও সম্মান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ইতিবাচক মনোভাব দেশের মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে মালয়েশিয়া ও চীন কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় থেকেই মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এবারের সফরেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেছে এবং ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মাত্রার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছেন। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফরের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার স্বীকৃতি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ সফর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিয়েছে।

সফরের রাজনৈতিক বার্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো র‌্যালি, শোভাযাত্রা বা জমায়েত হবে না। তাঁর এই নির্দেশনা নতুন ধরনের দায়িত্বশীল ও সংযত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ, যা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর