সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

প্রকল্পের অর্ধেকই পরামর্শকের পকেটে!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রকল্পের অর্ধেকই পরামর্শকের পকেটে!
ছবি- ঢাকা মেইল

# সুবিধাভোগী পাবে মাত্র ১৩ শতাংশ
# ৩০০ সুবিধাভোগীর বিপরিতে পরামর্শক পৌনে ৫০০! 
# বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে ৩ কোটি টাকা ব্যয়
# বাস্তুচ্যুতদের উন্নয়নের নামে ৬১ কোটি টাকার প্রকল্প
# বিদেশ সফরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভ্রমণ পরিকল্পনা 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নেওয়া দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৬১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য মানবিক হলেও ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই ব্যয় করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে পরামর্শক নিয়োগে।

অন্যদিকে যাদের জন্য প্রকল্প, সেই সুবিধাভোগীদের জন্য সরাসরি বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১৩ শতাংশেরও কম। প্রকল্পে পরামর্শক, প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস পরিচালনা, দেশি-বিদেশি ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী ৫ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনার জন্য উঠছে।

সমাজসেবা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এটি বাস্তবায়ন করবে সমাজসেবা অধিদফতর এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের শতভাগ অনুদানে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। ১ বছর ৯ মাস মেয়াদের এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটি খুলনা সিটি করপোরেশন, সাতক্ষীরা পৌরসভা, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২৭০ জন নারী ও ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ মোট ৩০০ জনকে ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও সমবায়ভিত্তিক আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু যতœ, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সামাজিক সেবা এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও এক হাজার ৫০০ জনের জীবিকা উন্নয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য যতটা মানবিক, ব্যয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ততটাই গভীর হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ৬১ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে শুধু পরামর্শকদের সম্মানী বাবদ। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৯ শতাংশই চলে যাবে পরামর্শকদের পেছনে। প্রকল্পে প্রায় পৌনে ৫০০ জন পরামর্শক কাজ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অন্যভাবে হিসাব করলে দেখা যায়, সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩০০ হলেও পরামর্শকের সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি। একটি ক্ষুদ্র পরিসরের সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে এত বিপুলসংখ্যক পরামর্শক নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। 

পরিকল্পনা কমিশনের ‍সূত্র অনুযায়ী, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বাবদ ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, অফিস ভবন ভাড়া বাবদ ৩ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা, বৈদেশিক ভ্রমণের জন্য ১ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, নিরাপত্তা সেবা, যানবাহন ভাড়া, জ্বালানি, প্রকাশনা, প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যয়, ডাক ও যোগাযোগ, অফিস সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খাতেও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এতেই শেষ নয়। প্রকল্পে অফিস ভাড়া বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের জন্য আরও অন্তত ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য আরও প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

পরামর্শক, প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস পরিচালনা, দেশি-বিদেশি ভ্রমণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাদ দিলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের জন্য সরাসরি বরাদ্দ থাকবে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৬১ কোটি টাকার প্রকল্পে যাদের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, তাদের ভাগে যাচ্ছে মোট অর্থের ১৩ শতাংশেরও কম।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য সামনে রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যয় কাঠামোতে সরাসরি উপকারভোগীদের চেয়ে প্রশাসনিক ব্যয়ের অংশ অনেক বেশি হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে একাধিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, যৌক্তিকতা, বাস্তবায়ন এলাকা এবং প্রস্তাবিত কার্যক্রম নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদের একটি অংশ ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হওয়ায় বাস্তবায়নকাল পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থায়ন, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, জনবল অনুমোদন, যানবাহন ভাড়ার অনুমতি, বৈদেশিক মুদ্রার হালনাগাদ বিনিময় হার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মতামতও সভায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগীদের ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও জীবিকা উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ৩২ কোটি ৬১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সেবা ক্রয়ের প্রতিটি প্যাকেজের পৃথক হিসাব ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন পরামর্শক সেবা, দেশি-বিদেশি ভ্রমণ, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, সেমিনার, জ্বালানি ব্যয় এবং টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে। বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে কোন সংস্থা থেকে কতজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন, তাদের দায়িত্ব কী হবে এবং প্রকল্পে তার বাস্তব উপযোগিতা কী, সেটিও স্পষ্ট করার কথা বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

ক্রয় পরিকল্পনা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিভিন্ন প্যাকেজের একক, পরিমাণ, ক্রয়পদ্ধতি এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের বিষয়গুলো পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা এবং আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী সংশোধন ও হালনাগাদ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কীভাবে নির্বাচন করা হবে, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ পদ্ধতি উপস্থাপন করতে হবে।

এদিকে প্রকল্পটি নিয়ে আগামী ৫ জুলাইয়ের মূল্যায়ন সভাকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে। সভায় পরিকল্পনা কমিশন ব্যয় কাঠামোতে পরিবর্তনের সুপারিশ করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ দরিদ্র ও বাস্তুচ্যুত মানুষের উন্নয়নের নামে নেওয়া একটি প্রকল্পে যদি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ভাগে মোট অর্থের মাত্র ১৩ শতাংশ যায়, আর প্রায় অর্ধেক অর্থই পরামর্শক ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, অগ্রাধিকার এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে কিছু প্রশাসনিক ব্যয় থাকবেই। কিন্তু সেই ব্যয় কখনোই এমন পর্যায়ে যেতে পারে না, যেখানে প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই আড়ালে পড়ে যায়। বিশেষ করে দরিদ্র ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নেওয়া প্রকল্পে অর্থের বড় অংশ তাদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হওয়াই প্রত্যাশিত। সেখানে যদি অধিকাংশ অর্থ পরামর্শক, ভ্রমণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হয়, তাহলে প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ সফরের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি সীমিত পরিসরের সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা করে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটির ব্যয় কাঠামো নিয়ে কমিশনের ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পরামর্শক নিয়োগ, প্রশাসনিক ব্যয়, বিদেশ সফর এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দের অনুপাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনার জন্য আগামী ৫ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশিদ বলেন, সুবিধাভোগীদের নামে নেওয়া প্রকল্পের অর্থ যদি শেষ পর্যন্ত পরামর্শক, বিদেশ ভ্রমণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে জনগণের কাছে এমন প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। মানুষ মনে করবে, তাদের নামে প্রকল্প নেওয়া হলেও প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছে অন্য কেউ। আপনি কাগজে-কলমে আমাকে ১০ টাকা দেওয়ার কথা বলবেন, অথচ বাস্তবে আমি যদি তিন টাকাও না পাই, তাহলে সেই প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। জনগণ তখন বলবে, এমন অনুদান আমাদের দরকার নেই।’

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের আরও গভীরভাবে ব্যয় কাঠামো পর্যালোচনা করা উচিত। প্রকৃত সুবিধাভোগীরা কতটুকু উপকৃত হবেন, সেটিই হওয়া উচিত প্রকল্প মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড। প্রশাসনিক ব্যয় ও পরামর্শক ব্যয় যেন কখনোই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে প্রশাসনিক ব্যয়ের একটি সীমা থাকা উচিত। গাড়ি, যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ কিংবা ভ্রমণের মতো ব্যয় পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব না হলেও এগুলো যতটা না করলেই নয় ঠিক ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখা দরকার। প্রকল্পের মূল অর্থের বড় অংশ যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেটিই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পেও এখন ফলাফলভিত্তিক ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কত টাকা ব্যয় হলো, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং সেই ব্যয়ে কত মানুষের বাস্তব উন্নতি হলো, সেটিই এখন মূল্যায়নের প্রধান সূচক। তাই প্রকল্প পরিকল্পনার শুরুতেই ব্যয়ের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

এএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর