বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্বৈরাচারী কালো অধ্যায় রুখতে ‘জুলাই জাদুঘর’ গড়ার আহ্বান মীর কাশেমের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

স্বৈরাচারী কালো অধ্যায় রুখতে ‘জুলাই জাদুঘর’ গড়ার আহ্বান মীর কাশেমের

স্বৈরাচারী কালো অধ্যায় রুখে দিতে ‘জুলাই জাদুঘর’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম (আরমান)।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চারস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।

ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম বলেন, আমরা এই কষ্ট বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি। এখন সময় এসেছে দৃশ্যমান কিছু করার। যারা প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন, আসমান-জমিনের কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারা যেন অর্থনৈতিকভাবে অন্যের মুখাপেক্ষী না হন, সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

গর্বের সঙ্গে নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি বুকে হাত দিয়ে গর্বের সঙ্গে বলি, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি গুম ফেরত একজন ভিক্টিম। যতদিন আল্লাহ আমাকে হায়াত দিয়েছেন এবং কথা বলার সুযোগ রেখেছেন, আমি এই পরিচয় দিয়ে যাব এবং ভুক্তভোগী হিসেবে গল্প বলে যাব। যেন আমাদের পরবর্তী কোনো প্রজন্মকে এই নির্মম ভাগ্যের মুখোমুখি হতে না হয়।

ফ্যাসিবাদের নির্মমতার ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাঠশালা হিসেবে ‘জুলাই জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জাদুঘর পরবর্তী প্রজন্মকে ফ্যাসিবাদের রূপ কেমন হয় তা শুরুর আগেই চিনতে শেখাবে। যদি কখনও দেশে আবারও এমন কালো অধ্যায়ের সূচনা হতে চায়, তবে তরুণ প্রজন্ম তা শুরুতেই রুখে দিতে পারবে।

মীর আহমদ বিন কাশেম বলেন, ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ভিক্টিম পরিবার চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন, যাদের ঢাকায় এসে কথা বলার সামর্থ্যটুকুও নেই। অবিলম্বে তাদের টার্গেট করে এককালীন বা মাসিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই।

জাতীয় ঐক্য ও হিলিংয়ের (ক্ষত নিরাময়) ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা কোনোদিন এই বাংলার মাটিতে ফ্যাসিবাদের কার্যক্রম ফিরে আসতে দেব না। সরকার যেন ভিক্টিম পরিবারগুলোকে বুকে টেনে নেয়, তাদের ক্ষত উপশমের ব্যবস্থা করে। আমরা জাতিগতভাবে এক হয়ে, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমাদের জন্মভূমিকে জড়িয়ে ধরে মরতে রাজি, কিন্তু ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করব না।

এসময় মীর আহমদ বিন কাশেম তিনটি দাবি পেশ করেন। যথা—

১. অ্যাকাউন্টেবিলিটি (জবাবদিহিতা ও বিচার): গুম এবং অমানবিক নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

২. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ: ভিক্টিমদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এককালীন বা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে তাদের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে পড়তে না হয়।

৩. নো-রিপিটেশন (পুনরাবৃত্তিরোধ): বাংলার মাটিতে যেন আর কখনোই কোনো গুম বা ফ্যাসিবাদের অমানবিক অধ্যায় ফিরে আসতে না পারে, তার জন্য কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি করা।

এসএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর