সরকার যদি নিজের দলের লোকজনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়— এমন প্রশ্ন তুলেছেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি দাবি করেছেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।’
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদনে গত ১০০ দিনে ৬০৫ জন খুন এবং ১৯৬ জন অপহরণের তথ্য উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি দলের লোকজন। এ অবস্থায় সরকার যদি নিজের দলের লোকজনেরই নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’
লক্ষ্মীপুরের হত্যাকাণ্ড এবং দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনাও করেন জামায়াতের এই এমপি।
বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটি জনবান্ধব নয়, বরং গরিব মারার বাজেট।
তার দাবি, ‘এলপিজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দামও লিটারপ্রতি যথাক্রমে ১৫ ও ১৮ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি ডিম, মুরগি, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা।’
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মুদির দোকানেও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে দিন শেষে একজন ভিক্ষুককেও ভ্যাট দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।’
বাজেটের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে এ লক্ষ্যগুলোর কোনো মিল নেই।’
তিনি জানান, ১১ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। অথচ বাকি এক মাসে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য।
এসময় তিনি দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় পৌঁছানোর তথ্য তুলে ধরে আর্থিক খাতের অবনতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
টিএই/এএইচ




