শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

১৫ রমজান আকাশে বিকট আওয়াজের হাদিসটি ‘জাল’

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৩, ০২:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

১৫ রমজান আকাশে বিকট আওয়াজের হাদিসটি ‘জাল’

কেয়ামতের আগে  প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদির আবির্ভাব সত্য। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসের আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস এটি। ইমাম মাহদি সম্পর্কে অনেক সহিহ হাদিস রয়েছে। তাঁর আত্মপ্রকাশের আলামত সংক্রান্ত হাদিসও রয়েছে। এর মধ্যে কিছু রেওয়ায়েত জাল। ইদানীং তেমনই এক জাল হাদিস নিয়ে অনলাইনে নানা গুঞ্জন চলছে। 

হাদিসটি হলো— রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো এক রমজানে আওয়াজ আসবে’। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের শুরুতে নাকি মাঝামাঝি সময়ে? নাকি শেষ দিকে?’ নবীজি (স.) বললেন, ‘না, বরং রমজানের মাঝামাঝি সময়ে। ঠিক মধ্য রমজানের রাতে। শুক্রবার রাতে আকাশ থেকে একটি শব্দ আসবে। সেই শব্দের প্রচণ্ডতায় ৭০ হাজার মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে আর ৭০ হাজার বধির হয়ে যাবে...।’ (আল ‍মুজামুল কাবির লিত তবারানি: ১৮/৩৩২/৮৫৩)


বিজ্ঞাপন


উল্লেখিত বর্ণনাটি সহিহ নয়। বরং বিজ্ঞ হাদিস বিশারদরা এটিকে বাতিল ও বানোয়াট হাদিস বলে চিহ্নিত করেছেন। এই হাদিস সম্পর্কে শাইখ আলবানি (রহ) বলেন, হাদিসটি موضوع তথা বানোয়াট। ইবনুল জাওজি তার মাউজুআত তথা বানোয়াট হাদিস সংকলন গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। (৩/১৯১)
ইমাম জাহাবি বলেন, হাদিসটি বাতিল। (তারতিবুল মাউজুআত: ২৭৮) 

আরও পড়ুন:
কেয়ামতের যেসব আলামত পৃথিবীতে বিদ্যমান
কেয়ামতের দিনটি কেমন হবে
কেয়ামতের যেসব আলামত সৌদি আরবে প্রকাশ পাবে

হাইসামি বলেন, এই হাদিসের বর্ণনা সূত্রে আব্দুল ওহাব ইবনুজ জাহহাক নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে যে মুহাদ্দিসিনদের দৃষ্টিতে মাতরুক বা পরিত্যাজ্য। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৭/৩১৩)
ইমাম ইবনুল কাইয়িম বলেন, ‘অগ্রিম তারিখ নির্ধারণ করে বিভিন্ন ঘটনার বেশ কিছু হাদিস পাওয়া যায়। সেগুলো সহিহ নয়।’ এর মধ্যে একটি হলো—‘অর্ধ রমজানের জুমার রাতে একটি আওয়াজ হবে। এতে ৭০ হাজার মানুষ বেহুশ হয়ে পড়ে যাবে.. ৭০ হাজার মানুষ বোবা হয়ে যাবে..।’ (আল মানারুল মুনিফ: ৯৬ পৃষ্ঠা)

আমাদের কর্তব্য হলো— আল্লাহর রাসুল (স.)-এর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং মিথ্যা, বানোয়াট বা অশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদিস প্রচার থেকে সাবধান হওয়া। কেননা বানোয়াট, জাল-জয়িফ হাদিস দিয়ে ইসলামের লাভ-ক্ষতি কিছুই হয় না, বরং নিজের বড় ক্ষতি হয়। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জেনেশুনে রাসুল (স.)-এর নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করে তার পরিণাম হয় জাহান্নাম। (বুখারি, আস-সহিহ ১/৫২; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি ১/১৯৯, মুসলিম, আস-সহিহ: ১/৯)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: 
‘দাব্বাতুল আরদ’: জন্তু যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে
কেয়ামতের বড় ও ছোট আলামতগুলো জেনে নিন
ইয়াজুজ-মাজুজ কবে আসবে?

সুতরাং দলিলযোগ্য নয় এমন বর্ণনা প্রচার করা থেকে সাবধান থাকতে হবে। কেয়ামতের আলামত সম্বলিত অনেক সহিহ হাদিস আছে। যথাসম্ভব ওসব হাদিস নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করুন, সবসময় হক কথা বলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর