রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

দিল্লিতে ভয়ংকর ট্যাক্সি চালক, শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

দিল্লিতে ভয়ংকর ট্যাক্সি চালক, শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

হরোর মুভিকেও হার মানায় সম্প্রতি দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ঘটনা। 

ফুটপাথ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে বাবাকে ডেকেছিল ১০ বছরের এক শিশু। 

অপহরণের সময় তার শেষ কয়েকটি শব্দ ছিল, ‘‘বাবা, আমাকে বাঁচাও’’। মেয়ের চিৎকারে ঘুম ভাঙতেই বাবা দেখেন, তার মেয়েকে একটি ট্যাক্সিতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন চালক। 

সাদা রঙের সেই গাড়িটির পিছু পিছু দৌড়োন তিনি। কিন্তু গতি বাড়িয়ে গাড়িটি উধাও হয়ে গিয়েছিল। দিশাহারা বাবা মেয়ের খোঁজে এ দিক-ও দিক ছুটে বেড়াতে থাকেন। 

শেষে পুলিশের টহল ভ্যান দেখতে পেয়ে তাদের জানান গোটা বিষয়টি। তার পরই শুরু হয় খোঁজ। কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয় ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের পাশে একটি জঙ্গল থেকে। 

শিশুটিকে ধর্ষণের পর স্কার্ফ দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। শিশুটির বাবার অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় খোঁজ। 

সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলেও গাড়িটির নম্বরপ্লেট ঠিক মতো দেখা যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শিশুটিকে অপহরণের ঘণ্টাখানেক আগে ফুটপাথ থেকে কয়েক হাত দূরেই ট্যাক্সিটি দাঁড় করানো ছিল। 

সোমবার ভোর তখন ৪টা। সাদা রঙের গাড়িটিকে ফুটপাথের সামনে এসে দাঁড়াতে দেখা যায়। এক ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করেন চালক। ভোর ৫টার সময় শিশুটিকে অপহরণ করা হয়।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, শিশুটির বাবার টুকরো টুকরো কিছু তথ্য একত্রিত করা হয়। সেই সূত্র ধরে শুরু হয় তল্লাশি। নয়টি দল গঠন করে অভিযুক্ত চালক এবং শিশুটির খোঁজ শুরু হয়। 

দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অ্যাপ ক্যাব হওয়ায় গাড়িটির ডিজিটাল তথ্য বার করা হয়। ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। গাড়িটি কোন পথে গিয়েছে, তা জানার জন্য জিপিএসের সাহায্য নেওয়া হয়। 

পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরীতে গাড়িটির খোঁজ মেলে। সাত ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন তল্লাশির পর অভিযুক্তের খোঁজ পায় পুলিশ। পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে আহত হন।

পুলিশ জানায়, গাড়ির সূত্র ধরে প্রথমে হরিয়ানার গুরুগ্রামে অভিযুক্তের ভাইয়ের খোঁজ পায় পুলিশ। তাকে আটক করা হয়। সোমবার দুপুরের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

তদন্তকারী কর্মকর্তরারা বলেন, ফোন বন্ধ করে রেখেছিলেন অভিযুক্ত চালক। পালানোর ছক কষেছিলেন। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যান। 

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে অপহরণ করে ধর্ষণ এবং খুনের পর কয়েক জন যাত্রীকে নিয়ে যাতায়াতও করেছেন অভিযুক্ত। তার পর বিকাশপুরীতে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানেই হদিস মেলে তার। অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পালানোর চেষ্টা করেন। তখনই তার পায়ে গুলি করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি বিহারে। তার স্ত্রী এবং এক সন্তান রয়েছে। ওই ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা ঝুলছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর